আলাদা শিল্প পার্ক চান লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উদ্যোক্তারা

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বমানের আধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য আলাদা শিল্প পার্ক বা শিল্পাঞ্চলের দাবি জানিয়েছেন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উদ্যোক্তারা।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বমানের আধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য আলাদা শিল্প পার্ক বা শিল্পাঞ্চলের দাবি জানিয়েছেন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উদ্যোক্তারা। এর জন্য নীতিগত সহায়তা, কর-ভ্যাটের সুষম হার এবং জমি দিয়ে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।

গতকাল ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ হালকা প্রকৌশল এক্সপো ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের এ এক্সপো ৩০ মে পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মো. মাহবুবুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আগামী দিনে বাংলাদেশকে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং প্রযুক্তি রফতানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ পরিবর্তনে স্থানীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে এ শিল্পের বড় উন্নতি সম্ভব।’

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ খাতটি একটি গেম চেঞ্জার হতে পারে। তবে রফতানি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা মূলধনের ঘাটতিতে রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাদের সংযোগ অনেকটাই সীমিত।’

প্রকল্প পরিচালক আবদুর রহিম খান বলেন, ‘এ খাতের নীতি এবং সমন্বয়ের কিছু সমস্যা রয়েছে, যা সমাধান করা প্রয়োজন। আমরা যদি শুল্ক এবং নীতিসংক্রান্ত বাধাগুলো দূর করতে পারি, তাহলে এ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

স্বাগত বক্তব্যে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের মালিকদের এ সংগঠনের সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ প্রকল্পটি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে পাঁচটি উপখাত রয়েছে—যেমন: ছাঁচ, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস, কৃষি উৎপাদন যন্ত্রপাতি, ফাউন্ড্রি এবং বাইসাইকেল—যেখানে তারা প্রায় সব খাতের জন্য সব ধরনের প্রকৌশল পণ্য উৎপাদন করে।’

দুদিনব্যাপী এ মেলায় মোট ২৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। স্থানীয় প্রকৌশল পণ্য, পরিষেবা এবং প্রযুক্তির প্রচারে এ এক্সপো উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে সব পক্ষকে ধারণা প্রদান করবে। তাছাড়া দেশীয় প্রকৌশল শিল্পের উদ্যোক্তারা এ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যমের সামনে বিভিন্ন নীতি প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন।

আরও